করোনা বিধি মেনে এখন অনেক কিছুই আমাদের জীবনে নিউ নরম্যালের তকমা পেয়েছে। যেমন মাস্ক পরে বাইরে বেরোনো, তেমনই অফিস বা শপিং মলে ঢোকার মুখে থার্মাল স্ক্রিনিং। কিন্তু কপালে এর ব্যবহার নিরাপদ নয় বলে সাবধান করছেন বিশেষজ্ঞরা।
থার্মাল স্ক্রিনিং
কপাল, কবজি বা কনুইয়ে থার্মাল গান তাক করে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। তবে সাধারণত কপালেই তাক করে মাপা হয় তাপমাত্রা। কপালে থার্মাল গান তাক করারই সাইড এফেক্ট আছে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। থার্মাল গান থেকে ইনফ্রারেড রশ্মি বেরিয়ে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে। কিন্তু ঘন ঘন এই ইনফ্রারেড রশ্মি কপালে লাগা ঠিক নয়। এর ফলে নানা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কনুই বা কবজিতে সেই সমস্যা নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
থার্মাল স্ক্রিনিং-এর মাধ্যমেও কনুই বা কবজি থেকেও শরীরের তাপমাত্রা নির্ভুল ভাবে জানা যায়। কিন্তু তা কপালে ইনফ্রারেড রশ্মি লাগার মতো ক্ষতিকর নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে থার্মাল গান থার্মোমিটার দু-ধরনের হয়। একটিতে লেসার বিম থাকে, অন্যটিতে ইনফ্রারেড রশ্মি। লেসার বিম থার্মোমিটার শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সেটি মানব শরীরে ব্যবহারের জন্য নয়।
মাঝে মাঝে কপালে ইনফ্রারেডরশ্মি ব্যবহারে কোনও সমস্যা নেই বলে জানাচ্ছেন ডাক্তাররা। তবে দীর্ঘকাল ধরে ঘন ঘন এই রশ্মি কপালে এস পড়লে তা থেকে শারীরিক সমস্যা দেখা যেতেই পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আপনি সপ্তাহে একদিন শপিং মল বা সুপার মার্কেটে গেলেন, সেখানে কপালে থার্মাল গান ব্যবহার করে আপনার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হল, তাতে তেমন কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু রোজই অফিস ঢোকার মুখে থার্মাল গান দিয়ে যদি আপনার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়, তাহলে বেশ কিছু সাইড এফেক্ট দেখা যেতে পারে।
যদিও থার্মাল গান দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা মাপা কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার, তবু কনুই বা কবজি থেকেই তাপমাত্রা মাপার পক্ষে সওয়াল করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাতে শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

0 Comments